| বঙ্গাব্দ

বিশ্বে ১১ কোটি ৭৮ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত, প্রতি ৭০ জনে ১ জন ঘরছাড়া | বাংলাদেশ প্রতিদিন

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 11-06-2026 ইং
  • 23143 বার পঠিত
বিশ্বে ১১ কোটি ৭৮ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত, প্রতি ৭০ জনে ১ জন ঘরছাড়া | বাংলাদেশ প্রতিদিন
ছবির ক্যাপশন: বিশ্বে ১১ কোটি ৭৮ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত

১০ বছর পর কমলেও ২০২৬-এ মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের নতুন উদ্বেগ; বিশ্বের ৭২% শরণার্থী মাত্র ৭ দেশের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | বাংলাদেশ প্রতিদিন

প্রকাশিত: ১১ জুন, ২০২৬

যুদ্ধ, সংঘাত, সহিংসতা এবং চরম মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার হয়ে বিশ্বজুড়ে বর্তমানে অন্তত ১১ কোটি ৭৮ লাখ মানুষ জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন। সহজ ভাষায় বলতে গেলে, বর্তমান পৃথিবীর প্রতি ৭০ জন মানুষের মধ্যে ১ জনই নিজের চেনা চেনা ঘরবাড়ি ও মাতৃভূমি ছেড়ে প্রাণভয়ে পালাতে বাধ্য হয়েছেন। জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা (ইউএনএইচসিআর)-এর সর্বশেষ গ্লোবাল ট্রেন্ডস প্রতিবেদনে এই হৃদয়বিদারক ও উদ্বেগজনক তথ্য উঠে এসেছে।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক বিশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ১০ বছরের দীর্ঘ ইতিহাসের মধ্যে এই প্রথমবারের মতো ২০২৫ সালে বিশ্বজুড়ে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মানুষের মোট সংখ্যা আগের চেয়ে কিছুটা হ্রাস পেয়েছিল। দীর্ঘ সংঘাত শেষে নিজ নিজ দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় বিপুল সংখ্যক শরণার্থী এবং অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত (আইডিপি) মানুষের স্বদেশে ফেরার হার বেড়ে যাওয়াকেই এর প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে জাতিসংঘ।

তবে ২০২৫ সালের সেই স্বস্তির সুবাতাস ২০২৬ সালের শুরুতেই ম্লান হয়ে গেছে। চলতি ২০২৬ সালে এসে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ও ইসরায়েলি আগ্রাসন এবং ইরান-লেবাননে নতুন করে শুরু হওয়া ভয়াবহ সংঘাত বিশ্বজুড়ে তীব্র উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশেষ করে লেবানন ও ইরানে চলমান যুদ্ধের কারণে গত কয়েক মাসে লাখ লাখ মানুষ নতুন করে বাস্তুচ্যুত হয়ে খোলা আকাশের নিচে বা বিভিন্ন আশ্রয়শিবিরে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন।

বাস্তুচ্যুত ১১ কোটি ৭৩ লাখ মানুষের পরিসংখ্যান

জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মানুষের সামগ্রিক চিত্রটি নিচে দেওয়া হলো:

  • ৬ কোটি ৮৬ লাখ মানুষ: যুদ্ধ ও সহিংসতার কারণে নিজ দেশের ভেতরেই বাস্তুচ্যুত (আইডিপি) হয়েছেন।

  • ২ কোটি ৮৫ লাখ মানুষ: ইউএনএইচসিআর-এর সরাসরি আওতাভুক্ত নিবন্ধিত শরণার্থী।

  • ৯০ লাখ মানুষ: আন্তর্জাতিকভাবে আশ্রয়প্রার্থী (অ্যাসাইলাম সিকার)।

  • ৭২ লাখ মানুষ: যাদের এই মুহূর্তে আন্তর্জাতিক সুরক্ষার জরুরি প্রয়োজন রয়েছে।

  • ৬০ লাখ মানুষ: ফিলিস্তিনি শরণার্থী, যারা ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের জন্য জাতিসংঘের ত্রাণ ও কর্মসংস্থান সংস্থা (ইউএনআরডব্লিউএ)-এর অন্তর্ভুক্ত।

সবচেয়ে বেশি শরণার্থী ও বাস্তুচ্যুত কোন দেশগুলো থেকে?

ইউএনএইচসিআর-এর প্রতিবেদনে দেখা গেছে, বিশ্বের মোট শরণার্থীর সিংহভাগ, অর্থাৎ প্রায় ৭২ শতাংশ মানুষ এসেছে মাত্র সাতটি যুদ্ধবিধ্বস্ত ও অর্থনৈতিক সংকটে থাকা দেশ থেকে—

দেশের নামশরণার্থীর সংখ্যা
ভেনেজুয়েলা৬৪ লাখ
ফিলিস্তিন৬০ লাখ
ইউক্রেন৫২ লাখ
সিরিয়া৪৯ লাখ
আফগানিস্তান৩৭ লাখ
সুদান২৮ লাখ
দক্ষিণ সুদান২৪ লাখ

সবচেয়ে বেশি শরণার্থীকে আশ্রয় দিয়েছে যেসব দেশ

বিশ্বের মোট শরণার্থীর এক-তৃতীয়াংশের বেশি মানুষ আশ্রয় নিয়ে মাত্র সাতটি দেশে বসবাস করছেন। মানবিক কারণে সবচেয়ে বেশি শরণার্থীকে আশ্রয় দেওয়া দেশগুলো হলো—

আশ্রয়দাতা দেশের নামআশ্রিত শরণার্থীর সংখ্যা
কলম্বিয়া২৮ লাখ (বেশিরভাগ ভেনেজুয়েলা থেকে আসা)
জার্মানি২৭ লাখ (ইউক্রেন, সিরিয়া ও আফগানিস্তান থেকে আসা)
তুরস্ক২৪ লাখ (অধিকাংশই সিরীয় নাগরিক)
উগান্ডা১৯ লাখ
ইরান১৭ লাখ (প্রায় সবাই আফগান নাগরিক)
চাদ১৫ লাখ
পাকিস্তান১৩ লাখ (প্রায় সবাই আফগান নাগরিক)

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক সুরক্ষার প্রয়োজন এমন প্রায় ৬৫ শতাংশ মানুষই নিজের দেশের সীমান্ত সংলগ্ন প্রতিবেশী দেশগুলোতে প্রথম আশ্রয় নিয়েছেন। তবে মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও লেবানন ঘিরে চলমান বর্তমান যুদ্ধাবস্থা এই শরণার্থী সংকটকে আগামী দিনগুলোতে আরও ভয়াবহ ও অনিয়ন্ত্রিত করে তুলতে পারে বলে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে জাতিসংঘ।

প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency